হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মারামারি মামলার দুই আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের দায়ের করা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার ৬ নম্বর কাগাপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘহাতা (শান্তিপুর) গ্রামের মৃত মুতি মিয়ার ছেলে মোতাব্বির (৪০), মৃত আ. লতিফ মিয়ার ছেলে আ. রহমান মিয়া (৩৮) এবং মৃত জয়নাল আবেদিন মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন মিয়া (৪৫)।
পুলিশ, স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে কাগাপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মারামারি মামলার আসামি আনফর আলীর ছেলে মুশাহিদ ও আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ সময় আসামিদের ছিনিয়ে নিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহফুজ উদ্দিনসহ ৮ থেকে ১০ জন পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে হামলাকারীরা গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। অবশ্য বিএনপি নেতার জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ওপর হামলার এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য গাজীপুর, লুহাজুরি, বাঘহাতা, আনন্দ বাজার ও মিলন বাজারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। রাতভর চলা এই অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোতাব্বির, আ. রহমান ও আলাউদ্দিনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মারামারি মামলার আসামি মুশাহিদ ও নজরুলকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছিনিয়ে নিতে ধস্তাধস্তি হয়, কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।
এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয় এবং শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




